বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
৯০০ টাকার পিলার ৪০ হাজারে—কি হচ্ছে প্রকল্পে?
অনলাইন দ্দদেস্ক
সম্প্রতি শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য প্রস্তাবিত ‘৩৬ জুলাই’ নামের একটি বিতর্কিত আবাসন প্রকল্প ঘিরে জোরালো দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে—এই প্রকল্পের একাধিক উপাদানে ৩ থেকে ৪৫ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাজেট বিশ্লেষণে জানা যায়, যেখানে একটি আরসিসি পিলারের প্রকৃত বাজারমূল্য ৯০০ টাকা, সেখানে তা দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। শুধু তা-ই নয়, ২৫ লাখ টাকার একটি লিফটের মূল্য ধরা হয়েছে ৯২ লাখ টাকা, ১২ লাখ টাকার সাবস্টেশন ৬৩ লাখে এবং ৯৫ হাজার টাকার পানির পাম্পের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ সীমানা প্রাচীর, বেড লিফট, সাবস্টেশন এবং পানির পাম্প—সব ক্ষেত্রেই ৪ থেকে ৫ গুণ অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম সত্ত্বেও, ‘৩৬ জুলাই’ নামক প্রকল্পের প্রস্তাব আজ একনেক সভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায়। ৭৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিত এই প্রকল্পে প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপেই রয়েছে আর্থিক বেহাল দশা ও স্বচ্ছতা সংকট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকার আমলে শুরু হলেও, এর অসঙ্গতির দায় নিয়ে কর্মকর্তারা পরস্পরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। কেউ বলছেন, দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদে এমন ভুল হয়েছে, আবার কেউ বলছেন—নিয়মতান্ত্রিক যাচাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে ৮০০টিরও বেশি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে।
তবে সবথেকে বিস্ময়কর দিক হলো—এত বড় বাজেটের প্রকল্পের এখনও নেই কোনো নির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান, নীতিমালা বা স্থায়ী নকশা। গত ১৬ জুন পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। সভায় উঠে আসে ফ্ল্যাট বরাদ্দের নীতিমালা, শহীদ পরিবারের উত্তরাধিকার নির্ধারণ, এবং সুষ্ঠু মালিকানা প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
পরিকল্পনা কমিশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রকল্পে স্পষ্ট নির্দেশিকা, অর্জন মূল্যায়ন ও উপকারভোগীদের তালিকা থাকা অপরিহার্য। অথচ এ প্রকল্পে এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানেরই অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
একজন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, “পরিবেশগত প্রভাব, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং বাজেটের সুনির্দিষ্ট লিখিত বিবরণ ছাড়া কোনো প্রকল্পই গ্রহণযোগ্য নয়।” তার মতে, ‘৩৬ জুলাই’ প্রকল্পটি তড়িঘড়ি করে পাস করানোর চেষ্টা চলছে, ফলে ডিপিপি পুনঃসংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে ‘গণমাধ্যম’-কে দেওয়া তথ্যে একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, প্রকল্পটির নীতিমালা না থাকলেও এটি প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে এবং দ্রুতই অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছাবে। শহীদ পরিবারকে ঘিরে আবেগ জড়িত থাকলেও, প্রকল্পে আর্থিক স্বচ্ছতার বড় ঘাটতি রয়েই গেছে।